চট্টগ্রামে ১৫৭টি মোবাইল ও ৫টি ল্যাপটপসহ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

31

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলীর দিকনির্দেশনায় নগরীর কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবু জায়েদ মোঃ নাজমুন নূরের নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাইকৃত ১৫৭টি মোবাইল ফোন, ৫টি ল্যাপটপ, নগদ টাকা ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদিসহ সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।

Advertisement

গতকাল ২৪ জুন বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে প্রথমে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনি (৫২) কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানাধীন ১নং নন্দনকানন আবাসিক এলাকার তালেবিয়া জামে মসজিদের পার্শ্বস্থ হাশেম সাহেবের বিল্ডিংয়ের নিচতলার ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতা মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন ওরফে পার্টি সোহেল (৩৫) ও তার সহযোগী সদস্য আবু সাঈদ (৩৪), মোঃ শামীম (২৪) ও সাইফুল ইসলাম (১৯) কে গ্রেফতার করা হয়।

এসময় তাদের কাছ থেকে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ২৪টি আইফোন, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৩৩টি মোবাইল ফোন, ৫টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ, বিভিন্ন কোম্পানির ২০১টি মোবাইল সিম কার্ড, মাইক্রোস্কোপ, নগদ ১ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা, ৪৪৫ টি বিভিন্ন মোবাইল ফোনের কেসিং, মাল্টিপ্লাগ, বিভিন্ন চার্জারসহ মোবাইল ফোনের আইএমইআই পরিবর্তনের মেশিন ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

এ সংক্রান্তে ২৫ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে দামপাড়াস্থ দামপাড়াস্থ পুলিশ লাইন্সের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন সিএমপি’র দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোঃ হাবিবুর রহমান প্রাং (অতিরিক্ত ডিআইজি)। উপস্থিত ছিলেন সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়াসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ হাবিবুর রহমান প্রাং বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিরা বিভিন্ন চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে কম মূল্যে চুরি ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন সংগ্রহ করত। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর ও ক্যাশিং পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করত। এ সংক্রান্তে গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা নং- ৬০, তারিখ- ২৫/০৬/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ধারা- ৪১৩/৩৪, দন্ডবিধি ১৮৬০ তৎসহ সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২২(২)/২৭ ধারা মোতাবেক মামলা রুজু করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন ওরফে পার্টি সোহেল-এর বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন থানায় ৮টি মামলা, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনি (৫২)-এর বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন থানায় ৪টি মামলা ও আবু সাঈদ-এর বিরুদ্ধে গাজীপুরের বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে।

Advertisement