বিএনপির মধ্যে পূর্বের সরকারের চরিত্রের পুনরাবৃত্তি দেখছি: সারজিস

1

নির্বাচিত সরকারের ছয় মাস যেতে না যেতেই বিএনপির মধ্যে পূর্বের সরকারের একই চরিত্রের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তার মতে, এ পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও ফ্যাসিবাদী আচরণের আশঙ্কা তৈরি করছে।

Advertisement

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের স্টেশন রোডের হোটেল সৈকতে এক সাংগঠনিক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা মনে করি, আগামীর বাংলাদেশে এনসিপিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করানো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কারণ, নির্বাচিত সরকারের ছয় মাস যেতে না যেতেই অতীতের সরকারের যে চরিত্র, সেটির পুনরাবৃত্তি আমরা বিএনপির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। এটা আমাদের মনে আশঙ্কা তৈরি করে।’

তিনি বলেন, ‘এনসিপি বাংলাদেশ পুনর্গঠন ও আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার যে রাজনীতি করছে, সেটি স্থায়ী নাও হতে পারে বা এর ভিত্তি তৈরি করতে নাও পারে। আগামীতে এর চেয়ে বেশি ফ্যাসিবাদী আচরণের প্রকাশ আমরা দেখার একটি সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি।’

সারজিস আলম বলেন, নির্বাচনের পর এনসিপির প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করা। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রায় পাঁচ হাজার ইউনিয়নে এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন।

তিনি বলেন, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি থাকতে হবে। একই সঙ্গে এনসিপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর আহ্বায়ক কমিটিও গঠন করা হবে।

সারজিস আলম জানান, ইতিমধ্যে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আরও ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আমরা জানতে পেরেছি, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে। নভেম্বরের মধ্যে সারাদেশের প্রায় পাঁচ হাজার ইউনিয়নে এনসিপির একক চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। আমরা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘এনসিপির প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে যারা এনসিপিতে আসতে চান বা এনসিপির পক্ষ থেকে নির্বাচন করতে চান, আপনারা এনসিপির সঙ্গে সংগঠিত হয়ে আসুন। খুব দ্রুত আমরা প্রার্থী ঘোষণা করব।’

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, বর্ষা শেষ হয়ে হেমন্ত ও শীতের দিকে যাওয়ার পর নগরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বর্ষাকালে চট্টগ্রাম ডুবে যাওয়ার বিষয়টি ভুলে যেতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘এখানে যারা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আছেন, এমপি আছেন, ক্ষমতাসীন দলের মেয়র আছেন- তাদের ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে শুরু করবে। তারা ভুলে যাবেন এই বর্ষায় কীভাবে চট্টগ্রাম ডুবে গিয়েছিল।’

সারজিস আলম বলেন, ‘আবার যখন বর্ষা আসবে, তখন তারা শুটিং করার জন্য জামাকাপড় পরে হাঁটুপানিতে নামবেন। কেউ কেউ বিভিন্ন ধরনের নৌকা নিয়েও আসবেন। এই নাটক আমরা ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে দেখতে চাই না। এই নাটক মেয়র, প্রশাসক কিংবা এমপিদের পক্ষ থেকেও দেখতে চাই না।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী বলা হয়, বাংলাদেশের লাইফলাইন বলা হয়, বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাজধানীও বলা হয়। এখান থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ পরিচালিত হয়। শুধু লোক দেখানোর স্বার্থে নগরের সেবক হলে চলবে না।’

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ, জাতীয় যুব শক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল, জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ এবং এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম সুজাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement