ধর্ষণের পক্ষ নেওয়া আকাশ দাসের অবৈধ শপথ বাতিলসহ চবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ছাত্রশক্তির ৪ দফা দাবি১

4

চবি প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ রাখা, আসন্ন চাকসু (CUCSU) নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চরম বিশৃঙ্খলা ও দায়সারা ভাবমূর্তির বিরুদ্ধে চবি প্রশাসনের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’, চবি শাখা। একই সাথে ক্যাম্পাসে চলমান নৈরাজ্য দূর করতে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কঠোর ভাষায় ৪ দফা দাবি পেশ করেছে সংগঠনটি।

Advertisement

আলোচনা সভায় নারীবিদ্বেষী ও ধর্ষণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া চিহ্নিত অপরাধী আকাশ দাশকে পেছনের দরজা দিয়ে অবৈধভাবে শপথ করানোর ঘটনায় চবি প্রশাসনের চরম মেরুদণ্ডহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কঠোর সমালোচনা করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের তীব্র বিরোধিতা ও জনমতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রশাসন কীভাবে এমন ঘৃণ্য মানসিকতার ব্যক্তিকে পদে পুনর্বাসিত করার সাহস পায়—সে বিষয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, “প্রশাসনের এমন সুবিধাবাদী সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন।”

ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জাতীয় ছাত্রশক্তি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইসমাইল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কঠোর ভাষায় যে ৪ দফা দাবি পেশ করেন, তার মধ্যে প্রথমত রয়েছে রেলক্রসিংয়ে অবিলম্বে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন। শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও ক্যাম্পাসকে অপরাধমুক্ত রাখতে ঝুলে থাকা সিদ্ধান্ত বাদ দিয়ে দ্রুততম সময়ে রেলক্রসিংয়ে কার্যকর পুলিশ ফাঁড়ি বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের আর্থিক সংকট দূরীকরণ ও যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়নে অন-ক্যাম্পাস পার্টটাইম জব এবং চলমান অনিয়মমুক্ত স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়। তৃতীয় দাবি হিসেবে, আবাসিক হলের সিট বণ্টনে চলমান প্রহসন, দলীয় প্রভাব ও প্রশাসনিক অনিয়ম বন্ধ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর ও স্বচ্ছ নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমূল সংস্কারের দাবি তোলা হয়। এবং চতুর্থত, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামতের তোয়াক্কা না করে ধর্ষণের পক্ষে সাফাই গাওয়া বিতর্কিত আকাশ দাশের অবৈধ ও অনৈতিক শপথ অবিলম্বে তাৎক্ষণিক বাতিল ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

মোঃ ইসমাইল বলেন, “শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। রেলক্রসিংয়ে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, অন-ক্যাম্পাস পার্টটাইম কর্মসংস্থান, হলের সিট বণ্টনে স্বচ্ছতা এবং বিতর্কিত আকাশ দাসের অবৈধ শপথ বাতিলের এই ৪ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা ও ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জাতীয় ছাত্রশক্তি সর্বদা মাঠে থাকবে।”

আলোচনায় জাতীয় ছাত্রশক্তি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্ত ও মতামত নিয়ে চবি প্রশাসন যদি কোনো রকম টালবাহানা বা চাটুকারিতার রাজনীতি অব্যাহত রাখে, তবে ক্যাম্পাস জুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

Advertisement