মোঃ আশরাফ উদ্দীন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ দিয়ে প্রতি রাতে ছুটে চলে হাজার হাজার দ্রুতগামী যানবাহন। অথচ ব্যস্ততম এই পথেই সন্ধ্যা নামার পর নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। পৌরসভার আলোকায়ন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সড়কবাতি নষ্ট হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় সীতাকুণ্ড বাইপাস থেকে কুমিরা পর্যন্ত মহাসড়ক যেন পরিণত হয়েছে একেকটি মৃত্যুফাঁদে। বাতির অভাবে অন্ধকারে পথ দেখতে না পেয়ে মহাসড়কে নিয়মিত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ফলে আতঙ্কের মাঝেই রাত বিরাতে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয় পথচারী ও চালকদের।
সরেজমিনে সীতাকুণ্ড পৌরসদর বাইপাস, বাড়বকুণ্ড বাজার ও কুমিরা এলাকার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, ডিভাইডার ও সড়কের দুই পাশে বসানো শত শত সোলার ও ইলেকট্রিক স্ট্রিট লাইটের বড় অংশই অকেজো। কোনোটির বাল্ব ভেঙে ঝুলছে, আবার কোনোটায় আলো জ্বলে না বহু দিন ধরে। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুতগতির লরি ও দূরপাল্লার বাসগুলোর উচ্চক্ষমতার হেডলাইটের আলো বিপরীত দিক থেকে আসা ছোট যানবাহনের চালকদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। ফলে পথচারী পারাপার কিংবা ছোট থ্রি-হুইলারগুলোর জন্য রাতে চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাতের মহাসড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মো. জসিম উদ্দিন নিজের ভীতিকর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে রাত হলেই যেন চোখে শর্ষে ফুল দেখতে হয়। স্ট্রিট লাইটগুলোর বেশির ভাগই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। দূরপাল্লার বাস যখন হাইবিম লাইট জ্বালিয়ে সামনা-সামনি আসে, তখন সামনের রাস্তা বা পথচারী কিছুই দেখা যায় না। এই অন্ধকার অংশের কারণেই গত এক মাসে আমার চোখের সামনে দুটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। সড়কবাতিগুলো সচল থাকলে আমাদের এই আতঙ্কের মধ্য দিয়ে গাড়ি চালাতে হতো না।”
মহাসড়কে অন্ধকারের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সামাজিক দুর্ভোগ নিয়ে সীতাকুণ্ড পৌরসদর বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল বলেন, “একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার মহাসড়কসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে রাতে আলো থাকবে না—তা মেনে নেওয়া যায় না। আলো না থাকায় কেবল দুর্ঘটনাই ঘটছে না, অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। রাতের বেলায় শিশু ও নারীদের নিয়ে সড়ক পার হওয়া একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এটি সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছি।”
রাতের দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কবাতির কারিগরি সংকট বিষয়ে সীতাকুণ্ড পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বলেন, “মহাসড়কের ডিভাইডারে থাকা স্ট্রিট লাইটগুলোর বেশ কিছু সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি কারিগরি ত্রুটির কারণে অকেজো হয়ে পড়েছে। আমরা ইতিমধ্যেই এলাকাভিত্তিক নষ্ট লাইটের তালিকা তৈরি করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অকেজো সড়কবাতিগুলো মেরামত করে সচল করতে প্রয়োজনীয় নতুন বাল্ব ও সরঞ্জাম বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে।”
মহাসড়কে রাতের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গতি নিয়ন্ত্রণে কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন জানান, “রাতে আলো না থাকায় মহাসড়কের নির্দিষ্ট কিছু অংশে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে অন্ধকারের কারণে পথচারীরা যখন হঠাৎ রাস্তা পার হন, তখন দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা চালকের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। দুর্ঘটনার ঝুঁকিপূর্ণ অন্ধকার স্পটগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সড়কবাতিগুলো দ্রুত সচল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।”
















