সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে গত দুই বছরে শতাধিক পিসি (PC) প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দে এসব প্রকল্পের কিছু কাজ দৃশ্যমান হলেও অধিকাংশ প্রকল্পের বাস্তবায়ন, কাজের মান এবং মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির অংশ হিসেবে তাঁর কার্যালয়ে যান বেসরকারি টেলিভিশনের একটি চ্যানেলের সাংবাদিকরা। এ সময় প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও কাজের অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, প্রশ্নের জবাব না দিয়ে একপর্যায়ে তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
এদিকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘Goodbye Sitakunda’ লিখে একটি পোস্ট দেন প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান। তাঁর এমন পোস্টের পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তিনি বদলি হয়েছেন, নাকি অন্য কোনো কারণে সীতাকুণ্ড ছাড়ছেন—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, দুই বছরে শতাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি থাকলে সেসব প্রকল্পের তালিকা, বরাদ্দ, ব্যয়, কাজের বিবরণ এবং বাস্তব অগ্রগতি জনসম্মুখে প্রকাশে আপত্তি কোথায়? প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়ে থাকলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে অনীহা কেন?
আরও প্রশ্ন উঠেছে, প্রকৌশলীর বদলির বিষয়টি সত্য হলে এত দ্রুত বদলির পেছনে কী প্রক্রিয়া কাজ করেছে? নাকি এটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি বিদায়ী পোস্ট? এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
সচেতন মহলের দাবি, গত দুই বছরে বাস্তবায়িত সব পিসি প্রকল্পের তালিকা, বরাদ্দের পরিমাণ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, প্রকল্পের স্থান, কাজের পরিমাপ ও ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। যেসব প্রকল্পে অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সীতাকুণ্ডবাসীর প্রত্যাশা—প্রকল্পের নামে বরাদ্দ হওয়া প্রতিটি সরকারি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হোক। কোনো কর্মকর্তা বদলি হয়ে গেলেও তাঁর দায়িত্বকালে বাস্তবায়িত প্রকল্পের জবাবদিহি যেন থেমে না যায়।

















