বিচারের রাজনীতিকরণ ও রাজনীতির বিচারিকীকরণ: বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

1

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও রাজনীতির পারস্পরিক সম্পর্ক, আদালতের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে প্রথম আলো। আইনের ইতিহাসবিষয়ক গবেষক রাশেদ রাহমের লেখা ‘বিচারের রাজনীতিকরণ ও রাজনীতির বিচারিকীকরণ’ শীর্ষক নিবন্ধে দেশের বিচারব্যবস্থার রাজনৈতিক প্রভাব ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

Advertisement

নিবন্ধে বলা হয়েছে, কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় আদালতকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বৈধতা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যায়। অন্যদিকে বিচার বিভাগের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

লেখায় বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনী, সামরিক শাসনামল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ রায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী, ১৯৭৯ সালের পঞ্চম সংশোধনী, ১৯৮৮ সালের অষ্টম সংশোধনী, ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনী এবং ২০১৪ সালের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধান ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে এবং উচ্চ আদালত ছয়টি সংশোধনী বাতিল করেছেন। এসব সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কেন বারবার আদালতকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের সমাধানে আদালতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা দুর্বল করতে পারে।

নিবন্ধের মূল বক্তব্য হলো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করা জরুরি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগ ও রাজনীতির নিজ নিজ সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা প্রয়োজন।

লেখক: রাশেদ রাহম, আইনের ইতিহাসবিষয়ক গবেষক।

Advertisement