একনজরে চবি’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন

1514

মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর এর অনুমোদনক্রমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ এর ১৪(১) ধারা অনুসারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের(চবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিনকে ৪ (চার) বছরের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

Advertisement

প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন ২৪ সেপ্টেম্বর পূর্বাহ্নে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) হিসেবে যোগদান করেছেন। এ সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। যোগদানের পূর্বে মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ২০১১ সালে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সংগঠনের উপর অ্যাডভান্সড মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০১৫ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি অফ হংকং এর এশিয়ান অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বিভাগ থেকে বাংলাদেশে আওয়ামী সরকারের আমলে পুলিশের কার্যক্রমে মানবাধিকার বিপর্যয় শিরোনামে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন ২০০৫ সালে বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে কৃতি শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিনের শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। ২০০৬ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালে একই বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। এছাড়াও তিনি হংকং এর সিটি ইউনিভার্সিটি অব হংকং, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর ওমেন, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি’র বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি’র বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব মেরিটাইম এ্যাফেয়ারর্স সহ দেশের বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউশনে শিক্ষকতা করেছেন।

প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন ২০২২ ও ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শীর্ষ গবেষকের পুরস্কার লাভ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩ সালের শ্রেষ্ঠ গবেষণা অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। এছাড়াও তিনি ২০১৭ সালে কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজি, অস্ট্রেলিয়া এর ক্রাইম অ্যান্ড জাস্টিস সেন্টার কর্তৃক ইয়াং রিসার্চার এওয়ার্ড পান। স্কোপাস ইনডেক্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে ড. কামালের ২৫টিরও বেশি গবেষণা নিবন্ধ। স্কোপাস ও গুগোল স্কলারের সাইটেশন অনুযায়ী তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের একজন বেস্ট রিসার্চার।

তিনি তার বিভিন্ন গবেষণায় গত ১৫ বছর ধরে মানবাধিকার লংঘন, গুম-খুন, দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। এরমধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশে পুলিশের কার্যক্রমে মানবাধিকার লংঘন নিয়ে ২০১৫ সালে এক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। উক্ত গবেষণা “Human Rights abuses in Bangladeshi policing: the Protection Capacity of National Human Rights Commission” শিরোনামে, ২০১৭ সালে Springer Nature Gi Human Rights Review Journal এ প্রকাশিত হয়। জোরপূর্বক গুম ও খুন নিয়ে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর আরেকটি গবেষণা পরিচালনা করেন তিনি। উক্ত গবেষণাটি “Abduction and Disappearances in Bangladeshi Policing” Oxford University Press Policing: A Journal of Policy and Practice, Volume 14, Issue 3, September 2020, Pages 643-656, এ প্রকাশিত হয়।

প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন বাংলাদেশ পুলিশী কার্যক্রমে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের উপর “A southern perspective on extrajudicial police killings in Bangladesh” শিরোনামে একটি বুক চ্যাপ্টার প্রকাশ করেন ২০১৮ সালে বাংলাদেশের গুম ও খুনের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরবার জন্য তিনি তার গবেষণা কার্যক্রম থেমে রাখেননি। তাই তিনি এক্ষেত্রে আরও গবেষণাকার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ ধারাবাহিকতায় তিনি ২০২১ সালে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন উক্ত গবেষণাটি ২০২২ সালে Criminology and criminal justice জার্নালে Human rights abuses and criminal justice in policing practices in Bangladesh শিরোনামে প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশের মানবাধিকারকে মানবাধিকার সংগঠনের দৃষ্টিভঙ্গিতে আরো ভালোভাবে উপলব্দি করার জন্য তিনি আরো একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। উক্ত গবেষণাটি ২০২২ সালে বিখ্যাত ডেভেলপমেন্ট পলিসি রিভিউ জার্নালে NGOs’ approach to human rights and the challenges in Bangladesh শিরোনামে প্রকাশিত হয়। তিনি ২০২৪ সালের ইলেকশনের পর বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার শিক্ষা, রাজনৈতিক অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আরো একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। উক্ত গবেষণাটি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিনের আরও কিছু নিবন্ধের মধ্যে Environmental education for sustainable development in Bangladesh and its challenges শিরোনামে Sustainable Development জার্নালে. Environmental crimes and green criminology in Bangladesh, শিরোনামে Criminology & Criminal Justice জার্নালে, Forced returnee Bangladeshi female migrant domestic workers and their social reintegration experiences, শিরোনামে Current Sociology জার্নালে, Democracy and Human Rights of Rohingya in Myanmar, শিরোনামে Journal of Muslim Minority Affairs জার্নালে, NGOs’ Approach to the Reintegration of Returned Female Labor Migrants in Bangladesh শিরোনাম VOLUNTAS: International Journal of Voluntary and Nonprofit Organizations জার্নালে, Deficiencies of women’s participation in climate governance and sustainable development challenges in Bangladesh শিরোনামে sustainable development জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

এছাড়াও তিনি সমসাময়িক বিষয়ে নিয়মিত জাতীয় পত্রিকায় লেখালেখি করে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। তিনি একজন শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক। সব সময় ছিলেন শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে সরব। তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন।

প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন শিক্ষা জীবনে ১৪টি পুরস্কার ও বৃত্তি লাভ করেছেন। তিনি ২০১৯ সালে জেম্বার বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক ৪র্থ সম্মেলন: থিওরি মিটস প্র্যাকটিস কনফারেন্স এর ভ্রমণ অনুদান, ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ারh কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে অপরাধ ও বিচার গবেষণা কেন্দ্রের “আরলি-ক্যারিয়ার রিসার্চার স্কলারশিপ ইন সাউদার্ন ক্রিমিনোলজি”, হংকং সিটি ইউনিভার্সিটিতে ২০১২-২০১৩,mc ২০১৩-২০১৪ ও ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র হিসেবে গবেষণা ডিগ্রির জন্য অসামান্য একাডেমিক পারফরম্যান্স পুরস্কার, ২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির বার্ষিক সভায় দক্ষিণী সম্মেলনে যোগদানের জন্য প্রেস্টিজ-কুক ভ্রমণ পুরস্কার, ২০১৩-২০১৪ ও ২০১৪-২০১৫ সালে হংকং সিটি ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ টিউশন স্কলারশিপ, ২০১২-২০১৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন পর্যন্ত হংকং সরকারের অর্থায়নে ইউজিসি অব হংকং সিটি ইউনিভার্সিটির পোস্ট গ্রেজুয়েট স্কলারশিপ, ২০১০ সালে সুইজারল্যান্ড জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের MASIO বৃত্তি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসএস (সম্মান) ও এমএসএস ফাইনাল পরীক্ষায় অসামান্য ফলাফলের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেধা বৃত্তি ও বুক এওয়ার্ড অর্জন করেন।

প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিনের অন্যন্য প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার মধ্যে বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম ইউনেস্কো জেলা ক্লাব এর সভাপতি, দক্ষিণ রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির (SPSA) সদস্য, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সদস্য, পূর্ব এশিয়ান পুলিশিং স্টাডিজ ফোরামের সদস্য, এশিয়ান পুলিশ ফোরামের চেয়ারপারসন, গ্রিন ফিউচার বাংলাদেশের সভাপতি ও পরিবেশ মানবাধিকার আন্দোলন বাংলাদেশের সদস্য।

প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন ১৯৭৯ সালে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ফয়েজ আহমেদ ও মাতা চেমনা খাতুন। প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিনের সহধর্মিনী সরকারের একজন ডেপুটি সেক্রেটারী হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ৩ কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর আগ্রহের বিষয় শিক্ষকতা, গবেষণা ও সমাজসেবা। প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Advertisement