ফটিকছড়িতে প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি জামায়াত নেতার

26

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সালাহউদ্দিন জিকু নামের এক সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. শাহজাহান। জানা গেছে, তিনি উপজেলা জামায়াতের পেশাজীবী পরিষদের সাবেক সহসভাপতি।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় সদরে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সাংবাদিক সমাজে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ফটিকছড়ি থানা পুলিশের একটি দল। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে সদরের একটি বহুতল ভবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন সাংবাদিক সালাহউদ্দিন জিকু। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ মার্কেটে অবস্থিত ফটিকছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে কয়েকজন লোক নিয়ে উপস্থিত হন ওই জামায়াত নেতা মো. শাহজাহান। এ সময় তিনি সাংবাদিক সালাহউদ্দিন জিকুকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওই সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধরের কথাও বলেন। ঘটনাস্থলে তাকে না পেয়ে মুহূর্তেই তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এ সময় সাংবাদিক সালাহউদ্দিন জিকুর সহকর্মীরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলে তাদেরও শাসানোর চেষ্টা করেন ওই জামায়াত নেতা।

ঘটনার পর নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাংবাদিক সালাহউদ্দিন জিকু বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, “অপরাধীরা কোনো অবস্থায় পার পাবে না।”

প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের মতে, একজন রাজনৈতিক নেতার এমন আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। তারা অবিলম্বে ঘটনার সঠিকতা যাচাই করে বিচার এবং অভিযুক্ত জামায়াত নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সাংবাদিক সালাহউদ্দিন জিকু বলেন, তার (শাহজাহান) মালিকানাধীন ভবনটি অধিক মূল্যে বিক্রির বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট হলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরসের খোরাকে পরিণত হয়। আমিও বিষয়টি নিয়ে একটি রম্য পোস্ট করি। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেন। এ ঘটনায় আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মো. শাহজাহান মুঠোফোনে বলেন, “আমি হুমকি দিইনি। তবে মেজাজ হারিয়েছিলাম। পক্ষান্তরে তিনি আমার চরম ক্ষতি করেছেন।”

ফটিকছড়ি উপজেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, “তিনি জামায়াতের একজন নিষ্ক্রিয় কর্মী। আগে তিনি পেশাজীবী পরিষদের সহসভাপতি ছিলেন, কিন্তু এখন নেই।”

ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম। তিনি বলেন, “সবার সঙ্গে কথা বলেছি এবং পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”

Advertisement