তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে নগর বিএনপির শোকরানা দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

5

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আজ বাদ আছর নগরের নসিমন ভবনস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয় জামে মসজিদে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে শোকরানা দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Advertisement

মাহফিলে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর দরবারে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশের জনগণের কল্যাণ কামনা করা হয়।

মাহফিলে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তাঁকে নানামুখী ষড়যন্ত্র, নিপীড়ন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু কোনো নির্যাতন ও প্রতিকূলতাই তাঁকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

বক্তারা বলেন, তৎকালীন এক-এগারোর অবৈধ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ভোররাতে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জনাব তারেক রহমানকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে কারান্তরীণ করা হয়। কারাবন্দি অবস্থায় তাঁকে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়। দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দি থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি লাভ করেন।

তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা দাবি করে বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, এসব মামলায় জামিন লাভের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালে জনাব তারেক রহমান ইংল্যান্ডে যান। দীর্ঘ প্রবাসজীবনেও তিনি দেশের জনগণ ও দলের নেতাকর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন না। দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি প্রবাস থেকেই নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের প্রবাসজীবন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর জনাব তারেক রহমান ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তাঁর দেশে প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা এবং যা জনগণের মাঝে ব্যাপক আশাবাদ সৃষ্টি করে।

তাঁরা আরও বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ বিএনপির প্রতি আস্থা ও সমর্থন ব্যক্ত করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেন। জনগণের রায়ে সরকার গঠনের পর বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান বর্তমানে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেন, জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, আত্মমর্যাদাশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তাঁরা বলেন, কারামুক্তির এই তাৎপর্যপূর্ণ দিনে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি জনাব তারেক রহমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ।

শোকরানা দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি, সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মুবিন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য এম এ হান্নান, আবুল হাশেম, ইসকান্দর মির্জা, মুজিবুল হক, কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, জাফর আহমদ, মাহবুব রানা, নুর উদ্দিন হোসেন নুরু, মোহাম্মদ আজম, আশরাফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইউসুফসহ মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Advertisement