পাঁচবারের সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোক

সাবেক উপমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই আর নেই

41

চট্টলা নিউজ ডেস্কঃ মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক উপমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. আব্দুল হাই ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

Advertisement

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য, উপমন্ত্রী ও সংসদের প্যানেল স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।

১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল হাই। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালে পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন।

১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আব্দুল হাই। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুন এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জয়ী হন তিনি। সব মিলিয়ে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এই রাজনীতিক। তিনি ঢাকা-৮ ও মুন্সীগঞ্জ-৪ আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন।

১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। পরে অষ্টম জাতীয় সংসদে প্যানেল স্পিকার নির্বাচিত হন। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টাও ছিলেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া আব্দুল হাই স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

জাতীয় সংসদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মুন্সীগঞ্জে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

Advertisement