চসিকের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের উন্নয়ন নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

21

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নাম্বার এবং ২ নাম্বার ওয়ার্ডের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা: শাহাদাত হোসেন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের একটি বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Advertisement

শুক্রবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রেস্ট হাউজে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম নগরীর ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ও ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জনবহুল ও জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকার সড়কগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন সড়ক ও অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যেগুলোর উন্নয়নের ফলে সর্বাধিক মানুষ উপকৃত হবেন। এ জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, এলাকার প্রকৃত সমস্যাগুলো স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবচেয়ে ভালোভাবে জানেন। কোথায় সড়ক সংস্কার প্রয়োজন, কোথায় নতুন সড়ক নির্মাণ করতে হবে, কোন এলাকায় পর্যাপ্ত সড়কবাতি নেই কিংবা কোন অবকাঠামোর অভাবে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন—এসব বিষয় স্থানীয় পর্যায় থেকেই চিহ্নিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই উন্নয়নের সুফল যেন সর্বাধিক মানুষের কাছে পৌঁছায়। এমন কোনো সড়ক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যেটি দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সড়ক ও প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজের তালিকা তৈরি করবেন। সেই তালিকা আমার কাছে দিলে আমি তা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে পাঠাব এবং বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করব।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। অবশিষ্ট জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোও পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় সড়কবাতির প্রয়োজন রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে আলোকায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। উন্নয়নকাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সম্পন্ন হওয়া উন্নয়নকাজের তথ্যও জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সিটি কর্পোরেশনের লক্ষ্য। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলিত সড়ক, নালা-নর্দমা ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের দুর্ভোগে ছিলেন, সেসব এলাকায় প্রয়োজনীয় সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করছি না, প্রতিটি প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং জনগণ এর সুফল পাচ্ছেন কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। জনগণের প্রয়োজন ও স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে উন্নয়নকাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে। ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডেও ইতোমধ্যে অনেকগুলো সড়কের উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। আরও বেশ কিছু কাজ চলমান রয়েছে এবং নতুন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে।’

সভায় চসিকের প্রকৌশল বিভাগের প্রস্তুত করা উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন দুই ওয়ার্ডে বিগত সময়ে সম্পন্ন, চলমান ও পরিকল্পনাধীন উন্নয়নকাজের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, প্রাক্কলিত ব্যয় এবং বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়।

উপস্থাপনায় ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে ফতেয়াবাদ সিটি কর্পোরেশন ডিগ্রি কলেজের সংস্কার, ঠান্ডাছড়ি সেকান্দর কলোনি ও আকবরশাহ সড়কের উন্নয়ন, ফকিরহাট সড়ক, শাহজালাল সড়ক এবং বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও ড্রেন উন্নয়নকাজের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি লেবু কলোনি, ফতেয়াবাদ কলেজ রোডসহ বিভিন্ন এলাকার বাস্তবায়িত উন্নয়নকাজের চিত্র উপস্থাপন করা হয়।

২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডে আরেফিন নগর টিটিসি রোড ও ড্রেন সংস্কার, চসিকের আবাসিক ও অন্যান্য স্থাপনা সংস্কার, বিভিন্ন এলাকার সড়ক উন্নয়ন, বাংলাবাজার সড়ক, ক্যান্টনমেন্টসংলগ্ন সড়ক এবং বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের তথ্য তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এডিপিভুক্ত প্রকল্প, দরপত্র প্রক্রিয়াধীন কাজ এবং ভবিষ্যতে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, স্থানীয় জনগণের মতামত ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। কোন সড়কটির উন্নয়ন আগে হওয়া প্রয়োজন, কোথায় পানি নিষ্কাশনের সমস্যা রয়েছে কিংবা কোথায় নতুন অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি—এসব বিষয়ে এলাকার মানুষের অভিজ্ঞতা আমাদের পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবসম্মত করতে সাহায্য করে। তাই আমরা স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পরামর্শ ও মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে উত্থাপিত যেসব উন্নয়নকাজ সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব এখতিয়ার ও সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে, সেগুলো অগ্রাধিকার অনুযায়ী বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব অন্য সরকারি সংস্থা বা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের, সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সভায় কুলগাঁও বাস টার্মিনাল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়ে প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে কুলগাঁও বাস টার্মিনাল উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে এলাকার পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং গণপরিবহনসেবা আরও সুশৃঙ্খল করার পথ সুগম হবে।

মতবিনিময় পর্বে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে বাস্তবায়িত বিভিন্ন সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নকাজের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তাঁরা এলাকার অবশিষ্ট সমস্যাগুলো তুলে ধরে নতুন সড়ক নির্মাণ, পুরোনো সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সড়কবাতি স্থাপন এবং বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরামর্শ দেন।

এ সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত উন্নয়নকাজের ফলে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের সুবিধা বেড়েছে। তবে দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নতুন কিছু সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাও তৈরি হয়েছে। এসব কাজ পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হলে এলাকার মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবেন।

আলোচনা শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ও প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন স্থানীয় পর্যায়ে চিহ্নিত উন্নয়ন চাহিদাগুলো সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা এবং গুরুত্বের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। তাঁরা জনগণের প্রত্যাশা, প্রকল্পের বাস্তব প্রয়োজনীয়তা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার এখতিয়ার বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মতামত দেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement