অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ২০৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

24

বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ২০৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪০ শতাংশের বেশি। ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা, সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ এবং রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতার কারণে দেশের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম।

Advertisement

রোববার (৮ নভেম্বর) প্রথম আলোতে প্রকাশিত ‘ঋণের এই মহাসাগর থেকে কীভাবে উদ্ধার পাবে সরকার’ শীর্ষক এক মতামতধর্মী নিবন্ধে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।

নিবন্ধে বলা হয়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সময় দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ প্রায় ১৫ বছরে সরকারি ঋণের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

লেখকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নভেম্বর নাগাদ সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৬ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। আগামী অর্থবছরগুলোতে এ ব্যয় প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

নিবন্ধে কর্ণফুলী টানেল, ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি ও অন্যান্য মেগা প্রকল্পের ব্যয়, অনিয়ম এবং অর্থ অপচয়ের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের মতে, অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং পর্যাপ্ত রাজস্ব আদায় করতে না পারায় ঋণনির্ভরতা বেড়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশে নেমে আসাকে অর্থনীতির অন্যতম বড় দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজস্ব আয় না বাড়লে সরকারের বাজেট ঘাটতি মেটাতে নতুন ঋণের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদ মইনুল ইসলামের আশঙ্কা, ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের জন্য ভবিষ্যতে সরকারকে নতুন করে ঋণ নিতে হতে পারে। এতে একসময় উন্নয়ন ব্যয়ের বড় অংশ ঋণ পরিশোধেই চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে, যা ‘ঋণ ফাঁদ’ হিসেবে পরিচিত।

অর্থনীতির এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ, সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধ এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন লেখক।

Advertisement