টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসর থেকে একেবারে খালি হাতে ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল৷ আর সেই লজ্জার দায়ভার বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী৷
সুপার টুয়েলভের ৫ ম্যাচের ৫টিই হেরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শ্রীলঙ্কা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিছুটা প্রতিরোধ গড়া গেলেও ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা আর অস্ট্রেলিয়ার সামনে দাঁড়াতেই পারেনি টাইগাররা৷ বিশ্বকাপ মিশনের শেষ ম্যাচে অজিদের বিপক্ষে তো হারার সাথে সাথে এক লজ্জাজনক রেকর্ডেরও জন্ম দিয়েছেন তারা৷ আর দলের এই বাজে অবস্থার দায়ভার বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের কাঁধেই দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।
জঘন্য এক বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ দলের সমালোচনা হচ্ছে দেশে-বিদেশে। সমর্থক থেকে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ সবাই মুখর হয়েছেন সমালোচনায়৷ মাঠের বাজে পারফরম্যান্সের দায়ভার আসলে কার, সেইটা নিয়ে চলছে কাদা ছুড়াছুঁড়িও৷ তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর মতে, এই বাজে হারের দায়ভার কোনভাবেই এড়াতে পারে না নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
নাজমুল হাসান পাপনকে ব্যর্থ বলে অভিহিত করে নিজের অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে সাবের হোসেন চৌধুরী লিখেছেন – “নাজমুল হাসান পাপনের অধীনে বাংলাদেশ দল এই নিয়ে ৪টি বিশ্বকাপ খেলল। সেখানে পারফরম্যান্স আগেরবারের চেয়ে পরেরবার আরো খারাপ হয়েছে৷ বিসিবিতে সবচেয়ে বেশি সময় কাটানো এই সভাপতি আসলে সবচেয়ে অযোগ্যও৷ অন্যের ওপর দোষ চাপাতে উনি অনেক পটু। এটা করতে করতে আমাদের ক্রিকেটকেই মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছেন তিনি। এমন একটা নির্লজ্জ ক্রিকেট বোর্ড থাকা আমাদের জন্য লজ্জার৷”
সরকারি দলের এ প্রভাবশালী সাংসদ বিসিবিকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া আরেক টুইটে একটি ছবি শেয়ার করেছেন৷ সেই ছবিতে লেখা ছিল, “আপনি চারা লাগাবেন আমগাছের, আর আশা করবেন কাঁঠাল ফলবে—সেই আশা পূরণ হবে না। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নষ্ট করেছে প্রধানত দুর্নীতি। ঘরোয়া ক্রিকেটের ফল আগে থেকে ঠিক করে রাখা, আম্পায়ারদের দিয়ে সেই ঠিক করে রাখা ফল বাস্তবায়নের চেষ্টা করা। সাকিব আল হাসান স্টাম্পে লাথি মেরে যে দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কথা বলার আগল খুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু যা আসলে কায়েম হয়ে বসেই আছে।”
সাবের হোসেন চৌধুরী ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান ছিলেন। তিনি বিসিবির সভাপতি থাকার সময়েই টেস্ট মর্যাদা পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং বিশ্ব ক্রিকেটে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২ সালের অক্টোবর মাসে লন্ডনে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব আজীবন সদস্যপদ প্রদান করে সাবের হোসেনকে।

















