ওষুধের দাম বৃদ্ধি রোগীকে দুর্ভোগে ফেলেছে বিধায় এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক এবং নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজন।
আজ রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি উপরোক্ত বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এসময় সুজন বলেন, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে দেশেও বেড়েছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। ফলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে চাপে রয়েছে স্বল্প আয়ের নাগরিকগণ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্বড়িৎ হস্তক্ষেপের ফলে বেশ কিছু পণ্যের দাম কমেছে সেজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান সুজন। তবে এ সময়ে ওষুধের দাম বৃদ্ধির ফলে বাস্তবিক অর্থে রোগী ও তাদের স্বজনরা চাপে পড়বেন। বিশেষ করে বিভিন্ন রোগ-শোকে যাদেরকে প্রতিদিন ওষুধ সেবন করতে হয় তারা দুর্ভোগে পড়বেন বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রায় ৫৩টি ব্র্যান্ডের ওষুধের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেগুলো প্রায় সবসময় রোগীরা সেবন করে থাকেন। আকস্মিকভাবে ওষুধের দাম বৃদ্ধির ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। প্রাপ্ত তথ্য মতে কোনো কোনো ওষুধের দাম শতভাগেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে। এক শ্রেণীর লোভী ওষুধ উৎপাদনকারী সিন্ডিকেটের কারণে ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে সাধারণ রোগীদের অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া দাম বৃদ্ধির পূর্বেই বেশ কিছু অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরবরাহ বন্ধের অজুহাতে বাড়তি দামে এসব ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে ক্রেতাদের। এতে করে বিপাকে পড়ছেন তারা। আবার দাম বৃদ্ধি কিংবা সরবরাহ বন্ধের সুযোগ নেয় একশ্রেণীর ভেজাল ওষুধ উৎপাদনকারী এবং বিপণনকারীরা। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। হুবুহু একই রকম করে ওষুধের নাম, উৎপাদনকারী প্রতিষ্টান এবং সীল মোহর নকল করে ওষুধ বিপণন করা হচ্ছে। ক্রেতারা না জেনে এসব নকল ওষুধ সেবন করে দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক সময় প্রকৃত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্টানও এসব বিষয়গুলো দেখে না দেখার ভান করে। আবার অনেক বড় কোম্পানিও বাজারে নকল ওষুধ সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ ক্রেতা-বিক্রেতাদের। যার ফলে প্রতারিত ক্রেতাদের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।
নগরীর বিভিন্ন পাইকারী এবং খুচরা বাজারে প্রায় প্রতিদিনই নকল ওষুধের বিপণন চলছে অনেকটা ফ্রি স্টাইলে। যেনো এসব নকল ওষুধ বিপণনকারীদের লোমও কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। শহরের চেয়ে গ্রামের ওষুধের দোকানে এ অবস্থা আরো মারাত্মক আকারে দেখা দিচ্ছে। প্রশাসন মাঝে মাঝে এসব নকল ওষুধের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলেও অনেক সময় কার্যত এসব অভিযান আলোর মুখ দেখে না। আবার মামলা হলেও স্বাক্ষ্য, প্রমাণ কিংবা অন্যান্য অজুহাতে প্রকৃত অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর গলে বেড়িয়ে এসে পুণরায় নকল ওষুধ বিপণনের সাথে জড়িয়ে পড়ে।
এমতাবস্থায় এসব মানুষরূপী অমানুষদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা আজ সময়ের দাবী। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ঔষধ প্রশাসন, ওষুধ উৎপাদন এবং বিপণনকারী, ওষুধ শিল্প সমিতি, কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতিসহ সকল পক্ষকে এক হয়ে এসব নকল ওষুধ উৎপাদন এবং বিপণনকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান তিনি।
মানুষের জীবন মৃত্যুর অতি প্রয়োজনীয় উপকরণ ওষুধ নিয়ে এসব ছলছাতুরির অবসান ঘটিয়ে সকল পক্ষকে মানবিক হওয়ার উদাত্ত আহবান জানান খোরশেদ আলম সুজন।

















