চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে একটি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। ঘটনা তদন্তে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষার কম্প্রিহেনসিভ (৪২১) কোর্সের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ৫০৩ ও ৫০৪ নম্বর কক্ষে আজ বৃহস্পতিবার যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষার কম্প্রিহেনসিভ (৪২১) কোর্সের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার, ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উক্ত বিভাগে উপস্থিত হন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পরীক্ষা স্থগিতের সুপারিশ করেন উপাচার্য।
জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী সমকালকে বলেন, গতকাল বিকেলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে একটি উড়োচিঠি আসে। এই চিঠিতে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সব কোর্সের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। উক্ত আজ অনুষ্ঠিতব্য কোর্সের প্রশ্ন সেখানে দেওয়া ছিল। আমরা সেই চিঠির অভিযোগের ভিত্তিতে আজ পরীক্ষা শুরুর আগে উক্ত কোর্সের প্রশ্ন যাচাই করতে গিয়ে শতভাগ মিল পাই।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, উক্ত চিঠিতে বলা হয়, একজন শিক্ষক তার অনুগত শিক্ষার্থীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন। সকল কোর্সের প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার প্রমাণও ওই ব্যক্তির কাছে রয়েছে বলে উল্লেখ ছিল উড়ো চিঠিতে।
সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের একটি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীনকে। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্ল্যা পাটওয়ারী এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন শিক্ষক নিয়োগ শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া।

















