মোঃআশরাফ উদ্দীনঃ দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহাসিক ‘মে ১৮ ফাউন্ডেশন’-এর আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম ‘গোয়াংজু ডেমোক্রেসি ফোরাম-২০২৬’-এ স্পিকার হিসেবে অংশ নিতে যাচ্ছেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত। আগামী ১৮ মে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াংজু শহরে এই গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের ফোরামে এশীয় ও লাতিন আমেরিকার ছয়টি দেশ— বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মায়ানমার ও মেক্সিকো থেকে নির্বাচিত তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব বক্তব্য রাখবেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে সালেহ উদ্দিন সিফাত বিশ্বমঞ্চে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক জাগরণ ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরবেন।
ফোরামে তাঁর আলোচনার নির্ধারিত বিষয়— “তরুণদের লড়াই থেকে অভ্যুত্থান: একটি প্রজন্মগত জাগরণ।” আলোচনায় তিনি দেখাবেন, কীভাবে বাংলাদেশের তরুণরা প্রচলিত রাজনৈতিক ছকের বাইরে গিয়ে একটি ‘স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান’ তৈরি করেছে এবং সফল অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্নির্মাণে ভূমিকা রাখছে। এছাড়া বিচারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নিজের ভিশন তুলে ধরবেন তিনি।
সালেহ উদ্দিন সিফাত জানান, এই সফরে তিনি শহীদ আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, ওয়াসিম, ফেনীর সাইদুল ইসলাম শাহী, শ্রাবণ, ইকরাম এবং সীতাকুণ্ডের শহীদ আব্দুল্লাহ আল রাসেল বাবুসহ গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরবেন।
সফরকালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় এনসিপি ডায়াস্পোরা এলায়েন্সের নেতাকর্মীদের সাথেও এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন। ইতোমধ্যে ভিন্ন একটি আমন্ত্রণে সেখানে অবস্থান করছেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। সিউলে অনুষ্ঠিতব্য ডায়াস্পোরা এলায়েন্সের ওই বিশেষ সভায় তাঁরা দুজনেই উপস্থিত থাকবেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াংজুতে সংঘটিত স্বৈরাচারবিরোধী অভ্যুত্থানে শহীদ ও যোদ্ধাদের স্মরণে প্রতিষ্ঠিত ‘মে ১৮ ফাউন্ডেশন’ প্রতি বছর এই ফোরামের আয়োজন করে থাকে। সালেহ উদ্দিন সিফাত এই সফরের সফলতায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
















