প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর নতুন গতি পেয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের সমীক্ষার কাজ। প্রাকৃতিক পরিবেশ, বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য, সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনকে গুরুত্ব দিয়ে ১৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ ২৩ কিলোমিটার অংশ ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে অর্থায়ন করবে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের পাঁচটি যানজটপ্রবণ এলাকায় প্রথম ধাপে ছয় লেনে উন্নীতকরণের সমীক্ষা চলছে।
এর মধ্যে রয়েছে- পটিয়া বাইপাস, দোহাজারী, কেরানীহাট, লোহাগাড়া ও চকরিয়া অংশ। এসব এলাকায় যানজট নিরসনে সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ১৫৯ কিলোমিটার। জাতীয় মহাসড়ক এন-১ ক্যাটাগরির এই সড়কটি অপ্রশস্ত এবং বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
বিশেষ করে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চুনতির কয়েকটি অংশে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকের কারণে গত তিন বছরে অন্তত দুইশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এই মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চলতি বছরের ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার আশ্বাস দেন। এরপরই প্রকল্পের সমীক্ষা কার্যক্রমে গতি আসে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ছয় লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সোহাইব বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। সরকারপ্রধানের এ ঘোষণা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক। তবে শুধু ঘোষণা নয়, এর দ্রুত বাস্তবায়নও জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে এই মহাসড়ক দিয়ে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যানজট ও দুর্ঘটনা নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার, মাতারবাড়ি ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দিন দিন বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু করতে হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা আরও নিরাপদ ও গতিশীল হবে, যাতায়াতের সময় কমবে এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলের পর্যটন, শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করলেই হবে না, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় বিকল্প সংযোগ সড়কও নির্মাণ করা প্রয়োজন। মহেশখালীর মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে।
নগর-পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতের বন্দর, শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বিবেচনায় ছয় লেনের পাশাপাশি দ্বিতীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা জরুরি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহেদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছয় লেনে উন্নীতকরণের সমীক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় প্রায় ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে, যা ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এ প্রকল্পে প্রায় ২ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার ছয় লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণও অন্তর্ভুক্ত। অবশিষ্ট ৪৮ কিলোমিটারের ফিজিবিলিটি স্টাডি চলছে। অর্থায়ন নিশ্চিত করতে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
















