বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের সভাপতি হয়েছেন কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ)-এর প্রথম সহ-সভাপতি এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান সেলিম রহমান।
একই প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতি হয়েছেন পিএইচপি ফ্যামিলির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন এবং বাংলাদেশ কাবাডি ফেডাশেনের সহ-সভাপতি হয়েছেন আবুল খায়ের গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ চৌধুরী বাবলু।
তিনজনই দেশের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র।
সেলিম রহমান চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের সাইদাঁইর গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা খলিলুর রহমান দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী কেডিএস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা।
তিনি একজন আদর্শ শিল্পপতি হিসেবে ব্যবসা ও শিল্প থেকে অর্জিত অর্থ শিক্ষা ও সামাজিক খাতে উদার হাতে ব্যয় করেন। একজন শিল্পপতি হিসেবে তিনি সবসময় ভাবেন কিভাবে দেশকে শিল্পে অগ্রসরমান করে বিশ্বের সাথে মর্যাদার সাথে ব্যবসা বাণিজ্যে টিকে থাকা যায়। শিল্পে বিনিয়োগে বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ অবকাঠামো খাতে সরকারী সহায়তা এবং স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ বেশি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো, যানজটমুক্ত রাস্তা-ঘাট, কন্টেইনারজটবিহীন বন্দর ব্যবহার সুবিধা পাওয়া গেলে বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নেয়া সম্ভব বলে এ শিল্পপতি মনে করেন। বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, এল এন জি আমদানী করে গ্যাস সংকট থেকে উত্তরণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে চলতে দিতে হবে। বিদেশীরা বিনিয়োগের গ্যারান্টি চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন-এ ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে একটি ঐকমত্য তৈরী করা গেলে বিদেশী বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে।
তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে কেডিএস গ্রুপ নেতৃত্ব দানকারী অন্যতম প্রতিষ্ঠান। এছাড়া স্টিল, ব্যাংক, বীমা খাতে এ গ্রুপের ব্যাপক বিনিয়োগ রয়েছে। বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। কেডিএস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান পড়াশোনা করেছেন দার্জিলিংয়ের সেন্ট পল’স স্কুল ও আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায়। ফেডাশেনের সভাপতি হওয়ায় প্রতিক্রিয়ায় জানালেন, ‘শুনলাম, একটা চিঠিও দেখলাম। কিন্তু কেউ তো আমাকে আগে জানায়নি। দেখা যাক, ফেডারেশনের জন্য কী অবদান রাখা যায়।’
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের পরামর্শে নামকরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের ক্রীড়া উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য এই প্রথমবার দায়িত্ব দেওয়া হলো।
সরকারের ধারণা, এসব শিল্পোদ্যোক্তার সৃজনশীল ধারণা বাস্তবায়ন করতে পারলে সম্ভাবনাময় তিন ইভেন্ট- ব্যাডমিন্টন, কাবাডি ও সাইক্লিংয়ে উন্নতি করা সম্ভব।
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘সরকার সত্যিকার অর্থে বড় কর্পোরেট হাউজের সঙ্গে খেলাধুলার একটা যোগসূত্র ঘটাতে চায়। হাউজগুলোর মালিকদের সৃজনশীল মেধা ও আর্থিক সক্ষমতা দিয়ে দেশের খেলাধুলার মান উন্নয়নে কাজে লাগানো ও একই সঙ্গে তাদেরকে সম্মানিত করতে এই বিশেষ উদ্যোগ। আশা করি ভবিষ্যতে এর সুফল পাবে ক্রীড়াঙ্গন।’

















