ভাটিয়ারীতে ৭ যুবদল নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

1

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোঃ সেলিম মাহমুদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি হারুন, সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন, প্রচার সম্পাদক ইলিয়াছ, সদস্য রানা, ওয়াসিম এবং আসিফ হোসেন চৌধুরীকে উত্তর জেলা যুবদল কর্তৃক প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

Advertisement

বিষয়টি খুবই দুঃখজনক উল্লেখ করে এবং উক্ত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।

সোমবার রাত আটটায় ভাটিয়ারীস্থ দলীয় কার্যালয়ে উক্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মোঃ আলমগীর।

তিনি বলেন, যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা সবাই দলের দুঃসময়ে আগে নেতা কর্মী। তাদেরকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে অন্তত তৃণমূল পর্যায়ে সরজমিন তদন্ত করা প্রয়োজন ছিল। একটি পরিবার বসবাস করতে গিয়ে ভাইয়ে ভাইয়েও দ্বন্দ্ব হয়। এরা সবাই যেহেতু জাতীয়তাবাদী আদর্শবিশ্বাসী হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতি করে। সেহেতু তারা এক পরিবারের সদস্যের মতো। সবাই একসাথে দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। একসাথে ছিল, মাঝেমধ্যে মতে অমিল হলে ঝগড়া হতে পারে, সেট অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এবং তৃণমূল পর্যায়ে সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে ভালো হতো।

মোঃ আলমগীর বলেন, সেলিম মাহমুদের উপর হামলার ঘটনার পর সে বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করে। যেখানে ১১ জনের নামসহ আরো ১০-১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে উল্লেখ করতে হয়, গত ২১ মে সেলিম মাহমুদ তার সাঙ্গু পাঙ্গু নিয়ে ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদে ওয়ার্ড যুব দলের সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। সেখানে বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সেলিম ও তার সাঙ্গু পাঙ্গু হতে কফিলকে রক্ষা করতে গিয়ে সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ অনেকেই আহত হয়েছে।সে ঘটনার পর পর সেলিম মাহমুদ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। নেতৃবৃন্দ সেটার জন্য বৈঠকের ব্যবস্থা করে সমাধান করতে চাইলেও সেলিম মাহমুদের অনুপস্থিতের কারণে তা হয়নি। সেলিম মাহমুদ ২৪ এর ৫ আগস্টের সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। জুয়া খেলা পরিচালনা, মাদক ব্যবসাসহ নানান অপকর্ম করতে থাকে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আদর্শ সৈনিকরা সেলিমের এমন অপকর্মের প্রতিবাদ করতে থাকে। পাশাপাশি এলাকাবাসী তার এ সকল অপকর্ম বন্ধ করতে বারবার সতর্ক করে। কিন্তু সে কারো কথায় পাত্তা না দেওয়া দিন দিন তার প্রতি সকালের ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মোঃ আলমগীর বলেন, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত আমরা সবাই মেনে নিতে বাধ্য কিন্তু একটি পক্ষে প্ররোচনায় হয়ে বিস্তারিত যাচাই না করে একটি ওয়ার্ডের যুবদলের কমিটি নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করতে জেলা কমিটিকে ব্যবহার করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। নিজ দলের ভাইদেরকে নিজের দলের মানুষ দিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানি করা সরকারি আমলে মামলা শিকার হয়েছে। নিজ দলের ক্ষমতায় থেকেও তারা ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে। সেটা আমাদের সকলের জন্যই ও দলের জন্য ক্ষতি। এ বিষয়ে তৃণমূল থেকে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমরা উপরোক্ত নেতৃবৃন্দ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মোঃ রমজান আলী মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফিরোজুল আলম, বিএনপি নেতা নাছির সাওদাগার, মোঃ সোলায়মান, মোঃ ইউনুছ, মোঃ হানিফ মাঝি, মোঃ জামাল উদ্দিন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ শহীদুল ইসলাম শহীদ, মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ শাওন, মোঃ ফারুক, ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি মোঃ আছি উদ্দিন, ওয়ার্ড যুগ্ম সম্পাদক আয়ুব আলী, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাবেদ, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোঃ শারুক, ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ রুবেল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইয়াছিন, ছাএদল নেতা মোঃ রাসেলসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

Advertisement