স্কুল ও কলেজসমূহ খোলার পূর্বেই স্পট টিকাদান কর্মসূচী চালুর অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।
আজ শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতাল এবং বন্দরটিলা মাতৃসদন হাসপাতাল টিকা কেন্দ্রে টিকা গ্রহিতাদের মাঝে সুপেয় পানি এবং মাস্ক বিতরণকালে তিনি এ অনুরোধ জানান।
এসময় তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যথোপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশের জনগনকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে প্রতিদিনই দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচী পরিচালনা করছে সরকার। বিভিন্ন উৎস থেকে নগদ অর্থ দিয়ে টিকা সংগ্রহ করে জনগনকে কোভিড মুক্ত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যে জীবন ও জীবিকাকে সমুন্নত রেখে অর্থনীতির চাকা সচল রাখার লক্ষ্যে সবকিছু স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। স্কুল কলেজও ধীরে ধীরে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে স্কুল কলেজ খুলে দেওয়ার আগে প্রতিটি স্কুল কলেজে স্পট টিকাদান কর্মসূচী চালু করার অনুরোধ জানান তিনি। যাতে স্কুল কলেজ খোলাকে কেন্দ্র করে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হন।
এছাড়া সকল শিক্ষক, শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকার আওতায় আনার উদাত্ত আহবান জানান তিনি। অবশ্য সরকার যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদ সুজনের।
তিনি চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি অবলোকন করেন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় খুবই সন্তোষ প্রকাশ করেন। সুন্দর ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য বন্দর হাসপাতাল টিকাকেন্দ্রটি রোল মডেল হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সুন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানান সুজন।
এরপর তিনি বন্দরটিলা মাতৃসদন হাসপাতাল টিকাকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন এবং টিকা গ্রহিতাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। উপস্থিত টিকা গ্রহিতাদের মাঝে সুপেয় পানি এবং মাস্ক বিতরণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও অনুরোধ জানান তিনি। তবে বন্দরটিলা মাতৃসদন হাসপাতাল টিকাকেন্দ্রটি যেহেতু চারতলার উপরে অবস্থিত এবং টিকা গ্রহিতাদের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হয় সেক্ষেত্রে মহিলা এবং বয়স্করা কিছুটা অসুবিধার সম্মূখীন হন। তাই বন্দরটিলা মাতৃসদন হাসপাতাল টিকাকেন্দ্রটি পার্শ্ববর্তী টিসিবি ভবনের খালি মাঠে স্থানান্তর করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান সুজন। টিসিবি ভবনের খোলামেলা পরিবেশে টিকাদানের ব্যবস্থা করলে টিকা গ্রহিতারা স্বাচ্ছন্দ্যে টিকা গ্রহণ করতে পারতো বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, সরকার ইপিজেডসমূহে যেভাবে স্পট টিকাদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সেভাবে সকল শিল্পকারখানায় স্পট টিকা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
উপস্থিত টিকা গ্রহিতারা সুজনের মহতী এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং টিকা গ্রহিতাদের খবরাখবর নেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
পরবর্তীতে তিনি গুরুতর অসুস্থ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য রোটারিয়ান মো. ইলিয়াছকে দেখতে তার বাসভবনে যান। এসময় তিনি রোটারিয়ান মো. ইলিয়াছের পাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন। তার শারীরিক খোঁজ খবর নেন এবং তার সুস্থতা কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া কামনা করেন।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে নাগরিক উদ্যোগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজী মো. ইলিয়াছ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী পরিষদ (সিবিএ) এর সভাপতি মো. আজিম, সাধারণ সম্পাদক নায়েবুল ইসলাম ফটিক, কার্যকরী সদস্য আশীষ কান্তি মুহুরী, চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার নারায়ন চন্দ্র দাশ, আব্দুর রহমান মিয়া, সদস্য সচিব হাজী মো. হোসেন, মোরশেদ আলম, সরওয়ার জাহান চৌধুরী, ইমতিয়াজ হোসেন বাবু, হাসমত আলী, মো. শাহজাহান, সমীর মহাজন লিটন, মো. বাবলু, মো. শাহনেওয়াজ, জাহিদুল ইসলাম, আজম আলী জুয়েল, স্বদেশ দাশ, মাহাদী হাসান সনন, তৌহিদুল ইসলাম অপু, সাইফুদ্দীন তুহিন, আবু বক্কর সুমনসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
















