বিদেশিরা আসায় আওয়ামী লীগ ভালো সেজেছে: মির্জা ফখরুল

180

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিদেশিরা আসায় আওয়ামী লীগ ভালো সেজেছে। আওয়ামী লীগ বলে তারা নাকি সুষ্ঠু নির্বাচন দেবে। হাসবো না কি কাঁদবো বুঝতে পারছি না। ভূতের মুখে রাম নাম। মানুষ বার বার বেলগাছ তলায় যায় ? কারণ মানুষ জানে ওখানে গেলে ভূত ধরবে। আমরা কি জেনেবুঝে তাদের ফাঁদে পা দেবো? তারা আমাদের আবার বেলতলায় নিয়ে যেতে চায়। আওয়ামী লীগ হচ্ছে একটা বকধার্মিক দল। বক নদী, বিলে এক পা দিয়ে চুপ করে বসে থাকে, যে-ই একটা মাছ নিচ দিয়ে যায় টুপ করে খেয়ে ফেলে। আওয়ামী লীগ চুপ করে বসে থেকে নতুন করে ফাঁদ পেতেছে, যাতে টুপ করে আবার ক্ষমতায় চলে আসতে পারে।

Advertisement

তিনি রোববার (১৬ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর নুর আহমদ সড়কে নাসিমন ভবনের সামনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিকদলের দেশ বাঁচাতে শ্রমজীবী মানুষের জাগরণ’ শীর্ষক শ্রমিক মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে ও বিভাগীয় শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী এড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার, এস এম ফজলুল হক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ ফখরুদ্দিন মঈনুদ্দিনের সঙ্গে গোপন সন্ধি করে জোর করে ক্ষমতায় বসেছিল। সেদিন থেকে এদেশের জনগণ আন্দোলনে নেমেছে। আন্দোলন এখনও চলছে। দেশের মানুষকে মুক্ত করার, গণতন্ত্রকে মুক্ত করার আন্দোলন এখনও চলছে। আওয়ামী লীগকে বলতে চাই, দয়া করে খেলায় ক্ষান্ত দেন। অনেকদিন ক্ষমতায় ছিলেন। জনগণ ভোট দিলে আবার ক্ষমতায় আসবেন। দয়া করে জনগণকে একবার ভোট দেওয়ার সুযোগ দেন। না দিলে বাংলাদেশের জনগন জানে কি করে এটা আদায় করে নিতে হয়। বন্দুক দিয়ে, মামলা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। ১৯ জুলাই সারাদেশে বিএনপির এক দফা দাবিতে পদযাত্রা হবে। এটা মার্চ ফর ভিক্টোরি। অর্থাৎ বিজয়ের জন্য যাত্রা।

তিনি বলেন, আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন চাই। পরিবর্তন চাই বলেই আমরা রাস্তায় নেমেছি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় ১৫৪ জন এমপি সংসদে গিয়েছিলো। ২০১৮ সালের নির্বাচনে রাঁতের আঁধারে ভোট চুরি করে ক্ষমতা দখল করেছে। ২০২৪ এর যে নির্বাচন আসছে, দয়া করে মানুষকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন না। মানুষকে তার ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে দেন। এই সমস্যা শুধু খালেদা জিয়ার না, বিএনপির না, তারেক জিয়ার না। এই সমস্যা আজ পুরো জাতির। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করছিলাম একটি স্বাধীন মুক্ত বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য। আমরা চেয়েছিলাম স্বাধীন বাংলাদেশে সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু সবকিছু থেকে বাংলাদেশের মানুষ বঞ্চিত হয়ে গেছে শুধুমাত্র একটি কারণে। একজন ব্যক্তি, একটি পরিবার ও একটি দল ক্ষমতাকে নিজেদের কাছে চিরস্থায়ী করতে চায়।

আওয়ামী লীগ যেনতেনভাবে আবার ক্ষমতা দখলে নেয়ার পরিকল্পনা করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন প্রশাসনকে কাজে লাগাচ্ছে। ডিসি, এসপি, ইউএনও বানাচ্ছে তাদের পছন্দমতো লোকদের। নির্বাচন কমিশনের কথা আর কী বলব ! তারা কথায় কথায় বলে- খুব সুন্দর, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে সেরকম নির্বাচন দেব, কোনো দলকে প্রভাব বিস্তার করতে দেব না, তারা পারবে সবকিছু। আসলে তারা কোনোকিছুই পারবে না। তাদের হাতে কোনো ক্ষমতা নেই। আগে যেখানে ইচ্ছে সেখানে নির্বাচন কমিশন হস্তক্ষেপ করতে পারত, এখন সেটা তারা পারে না। নির্বাচন কমিশন এখন ঠুঁটো জগন্নাথ।

তিনি বলেন, বিদেশিদের সামনে আওয়ামী লীগ দেখাচ্ছে, আমরা ভালো হয়ে গেছি, বিরোধী দলকে মিছিল-মিটিং, আন্দোলন করতে বাধা দিই না। কোনো হয়রানি করছে না। এখনও পর্যন্ত কোথাও হামলা মামলার খবর পাইনি। আমরা নোয়াখালী প্রোগ্রাম করেছিলাম, সেখানে একটু ঝামেলা করেছে। ঢাকায় প্রোগ্রাম করেছি, কোনো ঝামেলা করেনি। কিন্তু এই যে, মার্কিন মন্ত্রীরা চলে গেলেন, এখন আবার শুরু করবে। কয়েকদিন আগে কুমিল্লার এক বিএনপি কর্মীর দুই হাতের কবজি কেটে নিয়েছে। মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও একদলীয় শাসনের সব ব্যবস্থা সরকার করে রেখেছে।

সরকার বাংলাদেশকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি হচ্ছে লুটেরাদের ভাগ, যারা ক্ষমতার বলে জনগণের টাকা লুট করে খাচ্ছে, বাংলাদেশকে লুট করছে, শোষণ করছে। আরেক ভাগ সাধারণ মানুষ, যারা এসব লুটেরাদের খপ্পরে পড়ে কষ্টে দিনযাপন করছে। চট্টগ্রামে একটি টানেল হয়েছে। নদীর তলদেশে রাস্তা হাতেগোনা কয়েকটি দেশেই আছে। টানেল আমাদের দরকার, আমরাও খুশি। টানেলে আপত্তি নেই। কিন্তু আমার ৮০ ভাগ লোক ১০ টাকায় কেজি দরে চাল খেতে পারছে না। এই ৮০ ভাগ লোক যদি অসুস্থ হয়, তাহলে তাদের জন্য সরকারি হাসপাতাল করা হয় না, সরকারি স্কুল করা হয় না। গত ১৫ বছরে কয়টি সরকারি স্কুল, হাসপাতাল হয়েছে খোঁজ নেন। পাকিস্তান আমলে ২২ পরিবার সবাইকে শোষণ করেছে, এখন ২২ হাজার পরিবার সৃষ্টি হয়েছে। এরাই দেশের সব মানুষকে এখন শোষণ করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ কখনও মাথা নোয়ায়নি। মাথা উঁচু করে সব আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। এই মাটি থেকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু হয়েছে। এই মাটি থেকে মাস্টার দা, প্রীতিলতা বিদ্রোহ করেছে। এই মাটি থেকে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন। এখান থেকেই যুদ্ধ শুরু হয়েছে। বর্তমান অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম পথ দেখিয়েছে। এক দফা দাবি, সরকারের পতনের দাবি আদায় করেই চট্টগ্রামবাসীসহ সারা দেশবাসী ঘরে ফিরে যাবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের পতনের দিন ঘনিয়ে এসেছে। এক দফায় কী বলা হয়েছে- শেখ হাসিনা বিদায় হও। একথা এখন শুধু বিএনপি বলছে না, যুগপৎ আন্দোলনে যারা আমাদের সাথে আছে, তারাও রাস্তায় নেমে গেছে, যারা আমাদের বাইরে আছে, তারাও রাস্তায় নেমে গেছে, নতুন নতুন সংগঠনও রাস্তায় নেমে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের কয়েকটা হালুয়া রুটির দল ছাড়া আর কেউ নেই। হালুয়া রুটির দলগুলোও আছে সেটা বলা যাবে না, তারা অপেক্ষা করছে আন্দোলন কোনদিকে যাচ্ছে, ভাবছে যদি শেখ হাসিনা যদি পড়ে যায়, তাহলে হালুয়া-রুটি শেষ। তবে এবার বাংলাদেশের জনগণ নজর রাখছে, কারা হালুয়া-রুটির দিকে আছে আর কারা জনগণের সাথে আছে। সুতরাং এবার আর হালুয়া-রুটিদের পার পাবার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গণতান্ত্রিক বিশ্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে প্রত্যেক নাগরিক ভোট প্রদানের মাধ্যমে তাদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত করবে, তাদের সরকার নির্বাচিত করবে। এর বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। কিছু কিছু বিদেশির আনাগোণা আপনারা দেখেছেন। তারা কেন বাংলাদেশে এসেছে, তারা কি ভারতে গেছে, শ্রীলঙ্কায় গেছে ? না, তারা শুধু বাংলাদেশে এসেছে ভোট চোরদের আস্তানা ভেঙ্গে দেয়ার জন্য। তারা বলেছে, তারা বাংলাদেশে একটি নিরপেক্ষ, অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচন দেখতে যায়, তারা বাংলাদেশে মানবাধিকার দেখতে চায়, তারা বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দেখতে চায়।

খসরু বলেন, বিদেশিরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখের ওপর সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে এসেছে। এরপর কি আর কিছু বলার আছে ? সরকার র‌্যাবের ওপর স্যাংশন প্রত্যাহার করতে বলেছে। জবাবে বিদেশিরা বলেছে, র‌্যাবের হাতে যেসব খুন, গুম হয়েছে আগে সেগুলোর বিচার করতে হবে। অর্থাৎ যারা যারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের বিচার চাচ্ছে। তাহলে বিচার যখন শুরু হবে, কে-কারা গুম-খুনের নির্দেশ দিয়েছে, সেটা আসবে, তাহলে কারা কারা বিচারের আওতায় আসবে সেটা আপনারা খুঁজে বের করুন। আওয়ামী লীগ এখন তাদের নেতাকর্মীদের মনোবল ঠিক রাখার জন্য নানা মিথ্যাচার করছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের এখন তৈরি হতে হবে। বিদেশিদের সমর্থন ভালো জিনিস। কিন্তু বিদেশিদের সমর্থনের ওপর বাংলাদেশের রাজনীতি নির্ভর করে না। তবে বিদেশিদের সমর্থনে সাধারণ মানুষ উদ্দীপ্ত হয়, সাধারণ মানুষ খুশি হয়। বিদেশিদের সমর্থনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। কিন্তু মূল দায়িত্ব আমাদের পালন করতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসক এরশাদের পতন ঘটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এবার রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ কি হবে সেটা বিএনপির ৩১ দফার মধ্যে আছে। এই ফ্যাসিস্ট, ভোটচোর দখলদার সরকারকে তাড়ালেই, শুধু শেখ হাসিনাকে তাড়ালেই বাংলাদেশের সব সমস্যার সমাধান হবে না। তারেক রহমান ৩১ দফা দিয়ে দেশ-জাতির সামনে, সারাবিশ্বের সামনে পরিস্কার করে দিয়েছেন, আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে চলবে। আগামীর বাংলাদেশের চরিত্র কি হবে, সেটা ৩১ দফায় পরিস্কার বলা আছে।

আমীর খসরু বলেন, বিএনপির চেয়ে শক্তিশালী কোনো রাজনৈতিক দল এখন বাংলাদেশে নেই। প্রধানমন্ত্রী একটা কথা বলেছেন শুনেছি, প্রধানমন্ত্রীত্ব চলে গেলে উনি কোথায় থাকবেন ? একটা কথা বলতে চাই, তিনি জনগণের ভোট না নিয়ে, জনগণকে বাইরে রেখে, জনগণের ভোট কেড়ে নিয়ে অবৈধভাবে যে ১০ বছরেরও অধিকসময় গণভবনে বসে আছেন, এটার ভাড়া দিতে হবে। গণভবনের ভাড়া দিতে হবে।

 

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, আজকে মেহনতী শ্রমিক জনতা জেগে ওঠেছে। সারাদেশের মানুষ হারানো গণতন্ত্র ফিরে পেতে চায়। নিজের ভোট নিজে দিতে চায়। দেশের মানুষ আন্দোলন মূখী। আন্দোলন ছাড়া সফলতা অর্জন করা যায় না। আন্দোলনের জোয়ারে সরকার পালাবে। একদফা ছাড়া সমাধান হবে না। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে শেখ হাসিনার সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্তবর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। এছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, আজকের সমাবেশ প্রমাণ করেছে শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই। ২০১৮ সালে তারা প্রশাসনের মাধ্যমে ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। এরা লুটেরা সরকার। মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে মেগা দূর্নীতি করে বিদেশে টাকা পাচার করেছে। আমরা তাদের বিচার করবো। যারা লন্ডনে বাড়ি করেছে তাদের বিচার হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন গণভবন ছাড়তে হলে উনি কোথায় গিয়ে থাকবেন, আমি বলি জনগণ যদি গণভবন থেকে বের করে দেয় তাহলে আপনার স্বামী ওয়াজেদ সাহেবের বাড়িতে গিয়ে থাকবেন। বেগম খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের যে জেলখানায় রেখেছেন সেখানেই হবে আপনার ঠিকানা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, আজকে জনগণ জেগে ওঠেছে। জনগণের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। যদি ক্ষমতা না ছেড়ে নিজের হাতে রাখেন তা হবে আওয়ামীলীগের জন্য অশনি সংকেত। ঢাকার বিএনপির সমাবেশের পর আওয়ামীলীগের লোকজন এখন কান্না করছে। তারা কোথায় যাবে। তাদের কি হবে? জনগণ অচিরেই গনঅভ্যুত্থানের ডাক দিবে। চট্টগ্রাম থেকেই সরকারের পতন করবো। সরকারের পদত্যাগ চাই না। পদত্যাগ করাবো। সেদিন আওয়ামীলীগ পালানোর পথ পাবে না।

এড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, বিএনপি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এই চট্টগ্রাম থেকে শ্রমজীবী মানুষের মহাসমাবেশ শুরু করেছে। চট্টগ্রাম থেকে সারাদেশে দিকনির্দেশনা দেবে। আমাদের এ লড়াই শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার করবে। বিএনপির নেতৃত্বে ৩৭ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। শেখ হাসিনার বিদায় অনিবার্য। চলে যেতেই হবে। শ্রমিক জনতা রাস্তায় নামলেই শাসকেরা মাথানত করে। শেখ হাসিনা কুট কলা কৌশলে জনগণকে আজকে জর্জরিত করে ফেলেছে। বীর চট্টলার মানুষ আজকে সারাদেশকে জাগিয়ে দিয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, আবারও জনগণকে প্রতারিত করে ক্ষমতা দখল করতে চায় আওয়ামী লীগ। কিন্তু এবার দেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ব দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়। আওয়ামী লীগ ভালো করেই জানে দেশের জনগণ ভোটের অধিকার পেলে তাদের রাজনৈতিক পরাজয় হবে। তাই তারা সং‌বিধা‌নের দোহাই দি‌য়ে আবা‌রো একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাক‌তে চায়। দে‌শের মানুষ তা‌দের সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হ‌তে দি‌বে না।

এস এম ফজলুল হক বলেন, বলেন, বর্তমানে শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সরকার ভোটাধিকার হরণ করে দেশের শ্রমিক, কৃষকের পেটে লাথি মেরেছে। দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শ্রমজীবী মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে তারা। কৃষক, শ্রমিক, তাঁতি ও জেলেদের মুক্তির জন্য কাজ করছে বিএনপি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ঢাকা ও নোয়াখালীর সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিনত হয়েছিল। আজকে চট্টগ্রামের মহাসমাবেশও মহাসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এই সমাবেশ প্রমাণ করেছে শেখ হাসিনাকে এদেশের মানুষ ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এখন আওয়ামী লীগ সরকারের পায়ের নীচে মাটি নেই। তারা এখন আবোল তাবোল বকছে। সারাদেশের মানুষ আজকে এই সরকারের পতনের আওয়াজ শোনার জন্য প্রস্তুত হয়েছে। আমাদের মহাসচিব একদফার ঘোষণা দিয়েছেন। শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না।

মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এক দফার আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। সরকারের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে। তারা সারাদেশে লুটপাট করে সব উজার করে দিয়েছে। এই সরকারের হাতে কারো জীবন নিরাপদ নয়। তাই সবাইকে জেগে ওঠতে হবে। দেশের মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রামের মুখরিত হতে হবে। কিছু ব্যবসায়ী তাদের সুবিধার জন্য ট্যাক্স মওকুফ করার জন্য গরিবের পেটে লাথি মারছে। তাদের শিক্ষা দেওয়া হবে।তাদের তালিকা করা হচ্ছে।কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।

এ এম নাজিম উদ্দীন ব‌লে‌ন, আওয়া‌মি লীগ জোর করে ক্ষমতায় বসে দেশের মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। দে‌শের গণতন্ত্র, ভোটা‌ধিার, কথা বলার অ‌ধিকার কে‌ড়ে নি‌য়ে‌ছে। অ‌বৈধ আওয়ামী সরকার দেশের নির্বাচন ব‌্যবস্থা‌কে ধ্বংস ক‌রে‌ছে। আওয়ামী লীগের অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আওয়ামীলীগ চলচাতুরীর মাধ‌্যমে নি‌জে‌দের নিয়ন্ত্রনে আ‌রো এক‌টি নির্বাচন কর‌তে ম‌রিয়া হ‌য়ে উ‌ঠে‌ছে। আমরা স্পষ্ট ব‌লে দি‌তে চাই শেখ হাসিনার অধীনে দে‌শে কোনো নির্বাচন হ‌তে দেওয়া হ‌বে না। বিএন‌পি জনগন‌কে সা‌থে নি‌য়ে ষড়য‌ন্ত্রের যে কোন নির্বাচন প্রতিহত ক‌রবে।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, যতই কায়দা করেন না কেন সময় শেষ। যেতে হবে। কোন কৌশল কাজে আসবে না। মানুষ মাঠে নেমেছে। যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।যেতেই হবে। আগামী ১৯ জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচির মাধ্যমে চট্টগ্রামবাসী নতুন ইতিহাস সূচনা করবে। দফা এক দাবি এক।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক মা ম্যা চিং, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিন মজুমদার, হারুনুর রশিদ ভিপি, সহ শ্রম সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, ফিরোজ মামুন মোল্লা, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ব্যারিষ্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সাচিং প্রু জেরী, সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সি. যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হক এনাম, উত্তর জেলা বিএনপির সি. যুগ্ম আহবায়ক এম এ হালিম, বিভাগীয় শ্রমিকদলের সি. সহ সভাপতি ইদ্রিস মিয়া, মহানগর শ্রমিকদলের সভাপতি তাহের আহমেদ, দক্ষিণ জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান, নোয়াখালী জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, উত্তর জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মোতালেব চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আসলাম কালু প্রমূখ।

Advertisement