সিআরবি থেকে শুরু, মীরসরাই ও জোরারগঞ্জ হয়ে নোয়াখালীতে অভিযান; উদ্ধার ৬টি মোটরসাইকেল ও ১টি বাইসাইকেল

চট্টগ্রাম-নোয়াখালীতে কোতোয়ালী পুলিশের অভিযান: চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৪

38

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চুরির অভিযোগে একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী থানা পুলিশ। গত ১২ ও ১৩ অক্টোবর পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী, মীরসরাই ও জোরারগঞ্জ এবং নোয়াখালীর সুধারাম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ছয়টি চোরাই মোটরসাইকেল, একটি বাইসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

সিএমপি পুলিশ কমিশনারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহেদুল কবিরের নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) নাঈমুর রহমানসহ পুলিশের একটি আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, গত ১২ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে কোতোয়ালী থানাধীন সিআরবি কাঠের বাংলোর সিঁড়ির গোড়ায় অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহমান ওরফে সুমন ওরফে আনোয়ার (২৭) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়নের ইছহাক ড্রাইভার হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বিপরীতে একটি ফার্নিচারের দোকানের সামনে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে মাইনুদ্দিন মুরাদ (২৭) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে একটি পুরোনো Honda Livo 110 সিসি মোটরসাইকেল ও একটি Vivo T4x 5G মডেলের স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

পরে গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে মীরসরাইয়ের মিঠানালা ইউনিয়নের রহমতাবাদ এলাকায় সুলতান পাঠানবাড়ির সামনে মো. পারভেজ অভির একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে একটি পুরোনো Ignitor 125 সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

একই দিন সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে জোরারগঞ্জ থানাধীন ৬ নম্বর ইউনিয়নের ইছাখালী এলাকায় হাজী আব্দুল খালেকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শাহাদাত হোসেন (৩০) নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে একটি পুরোনো HERO Splendor মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

এরপর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানা এলাকায় অভিযান চালায় কোতোয়ালী থানা পুলিশ। ওই দিন বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে সুধারাম থানাধীন ৮ নম্বর এওয়াজ বালিয়া ইউনিয়নে মালেকা সমাজের নুরুল আমিনের দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে আবু হুরায়রা (৩০) নামের চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেখানো ও শনাক্ত করা স্থান থেকে একটি পুরোনো Glamour 125 সিসি মোটরসাইকেল, একটি পুরোনো Honda Dream Neo মোটরসাইকেল এবং একটি Vivo Y19s Pro মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার চারজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নোয়াখালীর সুধারাম থানাধীন ২ নম্বর দাতপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর কালামিয়া ব্যাপারী বাড়িতে আরও একটি চোরাই মোটরসাইকেল থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে ১৩ অক্টোবর রাত ১০টা ৩০ মিনিটে সেখানে অভিযান চালিয়ে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে একটি পুরোনো Yamaha Saluto মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চট্টগ্রাম মহানগরীসহ চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে নিজেদের হেফাজতে রাখতেন তারা। উদ্ধার করা মোটরসাইকেলগুলো চোরাই বলে জেনেও নিজেদের হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মোটরসাইকেলগুলো কোথা থেকে চুরি করা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।

এ ঘটনায় উদ্ধার করা আলামতসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের থানায় আনার পর কোতোয়ালী থানায় ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মামলা করা হয়। মামলার নম্বর ৪২। দণ্ডবিধির ৪১১ ধারায় মামলাটি রুজু হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আব্দুর রহমান ওরফে সুমন ওরফে আনোয়ারের বিরুদ্ধে চুরি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে চারটি মামলা রয়েছে। অপর গ্রেপ্তার শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ অন্যান্য আইনে দুটি মামলা রয়েছে।

চোরাই যানবাহন উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র।

Advertisement